অন পেজ এসইও কি, এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ? SEO করার নিয়ম

প্রকাশ: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

অন পেজ এসইও

অন পেজ এসইও এমন একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি যা আপনাকে কোন রকম খরচ ছাড়াই লিড জেনারেশন এবং ব্লগে ট্রাফিক জেনারেট করতে সাহায্য করে।

কোনো একটি ব্লগ সাইট, ওয়েবসাইট বা ভিডিও চ্যানেলের সফলতা মূলত তার অর্গাণিক ভিজিটরস (organic visitors) এর উপর নির্ভর করে। অর্গানিক ভিজিটরস পেতে হলে আপনার পোস্ট ও পেজগুলোকে অবশ্যই অন পেজ এসইও এবং অফপেজ এসইও (SEO = Search Engine Optimization) অনুযায়ী অপটিমাইজ করতে হবে, বিশেষ করে অন পেজ এসইও (ON Page SEO)।

কারণ, সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে না এলে আপনার ওয়েবসাইটের পোস্ট বা প্রোডাক্টে কেউ ক্লিক করবে না। আর গুগলের প্রথম পেজে র‍্যাঙ্ক করতে হলে অন-পেজ এসইওর কোনো বিকল্প নেই।

তাই, আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় অন পেজ এসইও যেখানে আমরা অনপেজ এসইও কি, এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে অন পেজ এসইও করবেন, সেবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

এসইও কী | What is SEO?

একই বিষয়ে ইন্টারনেটে অসংখ্য আর্টিকেল লেখা হয়। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন তার রেজাল্টে কোন আর্টিকেলটিকে সবার আগে দেখাবে?

সাধারণভাবে বলা যায়, যে আর্টিকেলটি সার্চ ইঞ্জিনকে নিজের বিষয়বস্তু সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝাতে পারে, সেটিকেই সার্চ ইঞ্জিন প্রাধান্য দেয়।

আরো পড়ুন: এসইও কি? SEO এর কাজ শেখার উপায়

তাই SEO বা Search Engine Optimization বলতে বোঝায় গুগল, ইয়াহু, বিং এর মতো সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার আর্টিকেল সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বোঝানোর উপযোগী করে কনটেন্ট তৈরি করা। কারণ গুগল বা ইয়াহু মতো সার্চ ইঞ্জিন সেই লেখাটিকেই আগে দেখায় যেটি সে সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারে।

এসইও প্রকারভেদ: এসইও বিভিন্ন ধরনের থাকলেও মূলত এসইও দুই ধরনের;

  1. অন পেজ এসইও (on page Search engine optimisation), এবং
  2. অফ পেজ এসইও (off page Search engine optimisation)

অন পেজ এসইও কী | What is on page SEO in Bangla?

একটি ব্লগের কনটেন্ট বা আর্টিকেলকে এমনভাবে অপটিমাইজ করা হয়, যাতে তা সার্চ ইঞ্জিনের কাছে মানসম্মত ও প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে র‍্যাঙ্ক করার সুযোগ পায়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পেজ বা পোস্ট লেখার সময় যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেগুলোকেই অন-পেজ এসইও বলা হয়।

একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্ক করাতে অন পেজ এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিওয়ার্ড ব্যবহার, ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল লিংক, মেটা ট্যাগ, মেটা ডেসক্রিপশন, হেডিং ট্যাগ ইত্যাদি অন পেজ এসইও (On Page SEO) এর অন্তর্ভুক্ত।

অফপেজ এসইও কী | What is OFF Page SEO in Bangla?

সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ (SERP) এ ভালো র‍্যাঙ্কিং পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটের বাইরে গিয়ে যে সকল অপটিমাইজেশন কার্যক্রম করা হয়, যার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে একটি ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও রেপুটেশন বৃদ্ধি করা যায়, সেগুলোকেই অফ পেজ এসইও বলা হয়।

বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিংক সাবমিশন, ওয়েবসাইট প্রোমোশন, ব্র্যান্ড মেনশন এবং অন্যান্য অফ সাইট কার্যক্রমের মাধ্যমে অফ পেজ এসইও করা হয়ে থাকে।

অর্গাণিক ভিজিটরস কী | What is Organic Visitors?

সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয় সার্চ করার পর যখন একজন ব্যবহারকারী সার্চ রেজাল্ট থেকে কোনো ওয়েবসাইটের পেজ বা পোস্টের লিংকে ক্লিক করে সেই সাইটে প্রবেশ করে, তখন সেই ব্যবহারকারীকে অর্গানিক ভিজিটর বলা হয়। এই ধরনের ভিজিটকেই অর্গানিক ট্রাফিক বলা হয়।

সহজভাবে বলতে গেলে, যে সকল ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিন (যেমন: গুগল, বিং) ব্যবহার করে কোনো ওয়েবসাইটে আসে, তারাই সেই ওয়েবসাইটের অর্গানিক ভিজিটর বা অর্গানিক ট্রাফিক।

এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ | Importance of SEO

ধরুন, আপনি “অন-পেজ এসইও কীভাবে করা হয়” বিষয়ে একটি আর্টিকেল লিখে গুগলে ইনডেক্স করার জন্য সাবমিট করলেন। কিন্তু সঠিকভাবে এসইও অপটিমাইজ না করায় গুগল আপনার আর্টিকেলটির বিষয়বস্তু ঠিকভাবে বুঝতে পারল না। ফলে সেটি সার্চ রেজাল্টে ভালো অবস্থান পেল না।

এখন কেউ যদি গুগলে “অন পেজ এসইও কীভাবে করতে হয়” লিখে সার্চ করে, তাহলে কি গুগল আপনার আর্টিকেলটি দেখাবে? স্বাভাবিকভাবেই দেখাবে না। এই সমস্যা থেকে বাঁচতেই সঠিকভাবে অন পেজ এসইও করা অত্যন্ত জরুরি,  এক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই।

গুগলের কাছে একই বিষয়ে হাজার হাজার আর্টিকেল থাকে। কিন্তু সে সবার সামনে সেই আর্টিকেলটিই দেখায়, যার অন পেজ এসইও সবচেয়ে ভালো এবং যার ওয়েবসাইটের অফ পেজ এসইও বা অথরিটি তুলনামূলক বেশি।

অর্গানিক ভিজিটরস (Organic Visitors) না পেলে আপনি বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে ভিজিটর আনতে পারবেন। কিন্তু শুধু সোশ্যাল বা রেফার ট্রাফিকের ওপর নির্ভর করে কোনো ওয়েবসাইট খুব বেশি দূর যেতে পারবেনা। বিশেষ করে আপনি যদি একা কাজ করেন, তবে কয়েক মাসের মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে যাবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া ভিজিটরস আপনার জন্য বোনাস হতে পারে, কিন্তু ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত আয় করতে হলে অর্গানিক ভিজিটরসের কোনো বিকল্প নেই। সাধারণভাবে দেখা যায়, অর্গানিক ভিজিটরদের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার ভ্যালু তুলনামূলক বেশি হয়, যেখানে রেফারাল বা ডিরেক্ট ভিজিটরদের ক্লিক ভ্যালু তুলনামূলক কম হয়ে থাকে।

সবশেষে বলা যায়, আপনি যদি মানসম্মত আর্টিকেল লিখেও সেটিকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্ক করাতে না পারেন, তাহলে আপনার পরিশ্রমের পূর্ণ ফল পাওয়া সম্ভব নয়। একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইটের জন্য অন-পেজ এসইওর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে যারা শখের বশে ব্লগিং করেন, তাদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া বা রেফার ট্রাফিকও অনেক সময় যথেষ্ট হতে পারে।

অন পেজ এসইও করার উপায় | ON Page SEO in Bangla

অন পেজ এসইও সঠিকভাবে করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আর্টিকেল লিখতে হয়। যারা ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করেন, তারা এসইও স্কোর বিশ্লেষণের জন্য Yoast SEO অথবা Rank Math এর মতো প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্লগার প্ল্যাটফর্মে এমন কোনো বিল্ট-ইন এসইও স্কোর সিস্টেম নেই।

তবে আপনি প্লাগইন ব্যবহার করুন বা না করুন, নিজে যদি এসইও করার সঠিক নিয়ম না জানেন, তাহলে কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব নয়। তাই চলুন, অন পেজ এসইও কীভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

১) ব্লগ কনটেন্ট কোয়ালিটি

ইন্টারনেট জগতে এখন পর্যন্ত কনটেন্টের চেয়ে ভালো এসইও (SEO) আর কিছু তৈরি হয়নি। আপনি যদি এসইও সম্পর্কে কিছুই না জানেন, তাহলেও শুধু ইউনিক ও কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্ব দিন। কারণ একটি মানসম্মত লেখা নিজেই একটি শক্তিশালী SEO।

ইউনিক ও কোয়ালিটি কনটেন্টকে গুগল ধীরে ধীরে খুঁজে বের করে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী র‍্যাঙ্ক প্রদান করে।

বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ ধরা যাক। ধরুন, আপনি কলেজে গিয়ে দেখলেন কিছু ছাত্র ছাত্রী আছে, যারা কারও সঙ্গে নিজ থেকে পরিচিত হতে আগ্রহী নয়। কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যখন দেখা যায়, সেই ছাত্র বা ছাত্রী রেজাল্ট বোর্ডের শীর্ষে রয়েছে, তখন সবাই তাকে এক নামে চিনে ফেলে। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই তাকে আলাদা করে হাইলাইট করেন নাম ধরে ডাকেন, উত্তর দিতে বলেন।

আরো পড়ুন: আর্টিকেল লেখার নিয়ম সমূহ

ঠিক একইভাবে, ইউনিক কনটেন্ট র‍্যাঙ্ক পেতে একটু সময় নিলেও, গুগল (এখানে কলেজ টিচারের মতো) যখন আপনার কনটেন্টের মান ও বিষয়বস্তু বুঝে নেয়, তখন নিজ দায়িত্বেই সেটিকে ভালো র‍্যাঙ্ক প্রদান করে।

২) আর্টিকেল কীওয়ার্ড (Keyword) রিসার্চ

কীওয়ার্ড হলো একটি অর্থবোধক শব্দ বা বাক্য, যা মানুষ সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ বক্সে টাইপ করে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য খুঁজে বের করার জন্য। অর্থাৎ, গুগলে কোনো বিষয় সম্পর্কে মানুষ যে শব্দ বা বাক্য দিয়ে সার্চ করে, সেটিকেই কীওয়ার্ড (Keyword) বলা হয়।

ধরুন, আপনি গুগলে সার্চ করলেন “অনলাইনে আয়ের পদ্ধতি কী?” আবার কেউ হয়তো সার্চ করল “অনলাইনে আয়ের সহজ উপায় কী?” এখন প্রশ্ন হলো, এখানে মূল কীওয়ার্ড কোনটি?

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন এখানে মূল কীওয়ার্ড হলো “অনলাইনে আয়”।

আপনি যদি সঠিক কীওয়ার্ড রিসার্চ না করে আর্টিকেল লেখেন, তাহলে আপনার কনটেন্ট গুগলে সার্চ করলেও সহজে পাওয়া যাবে না। আবার ভুল কীওয়ার্ডের জন্য র‍্যাঙ্ক করলেও তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, একজন ভিজিটর যদি “অনলাইনে আয়” সার্চ করে, আর সামনে যদি স্বাস্থ্য বিষয়ক কোনো আর্টিকেল আসে, তাহলে সে সেটি পড়বে না।

তাই কীওয়ার্ড অবশ্যই সঠিক ও প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

কীওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবসময় লং-টেইল কীওয়ার্ড ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। যেমনঃ শুধু “অনলাইনে আয়” কীওয়ার্ড ব্যবহার না করে যদি “মোবাইলে অনলাইনে আয়” কীওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়, তাহলে র‍্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়। কারণ এই ধরনের কীওয়ার্ডে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কম থাকে এবং গুগল এই নির্দিষ্ট বিষয়ের আর্টিকেলগুলো সার্চ রেজাল্টে আগে দেখায়।

আরো পড়ুন: বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ করার টুলস - ফ্রি Bangla Keyword রিসার্চ

কিওয়ার্ড (Keyword) কোথায় পাবেন?

  1. কীওয়ার্ড (Keyword) সার্চ করার জন্য অনেক সাইট রয়েছে, তবে বেশিরভাই পেইড ‍টুলস। ফ্রিতে গুগল এর keyword planner ব্যবহার করতে পারেন।
  2. আপনার ব্রাউজারে Keyword Research এক্সটেনশন ব্যবহার করে কিওয়ার্ড সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন।
  3. ব্লগ/ওয়েবসাইট ইংরেজিতে হলে Ubersuggest ব্যবহার করে ফ্রিতে সামান্য কিন্তু ভাল আইডিয়া পেতে পারেন।
  4. গুগলে কোন টপিক নিয়ে সার্চ করলে একদম নিচে স্ক্রল করলে দেখবেন, লোকজন আরো খোঁজ করে লেখা থাকে। এখান থেকেও আপনার কীওয়ার্ড (Keyword) পেতে পারেন।
  5.  আপনি যদি আরো বেশি কীওয়ার্ড (Keyword) নিয়ে রিসার্চ করতে চান, তবে পেইড ভার্সন কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস নিন।

৩) লিঙ্ক বিল্ডিং (Link Building)

আর্টিকেলে লিঙ্ক সঠিকভাবে সেটআপ করলে আপনার কনটেন্ট গুগলে ভালোভাবে র‍্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে। গুগলে কোনো বিষয় সার্চ করলে প্রায়ই দেখবেন, উইকিপিডিয়ার আর্টিকেল শীর্ষে আসে।

আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন উইকিপিডিয়ার আর্টিকেলে লিঙ্কের ব্যবহার? তারা অসাধারণভাবে লিঙ্ক ব্যবহার করে। এই লিঙ্কগুলোর মাধ্যমে গুগল সহজেই বিষয়বস্তু ও প্রাসঙ্গিকতা বুঝতে পারে।

লিঙ্ক বিল্ডিং (Link Building) মূলত দুই ধরনের হয়:

১. অভ্যন্তরীণ লিঙ্ক বিল্ডিং (Internal Link / Inbound Link Building)

আপনার নিজের ওয়েবসাইটের অন্য পেজ বা পোস্টের লিঙ্ক ব্যবহার করা। এটি ভিজিটরদের ওয়েবসাইটে বেশি সময় ব্যয় করতে সাহায্য করে এবং গুগলকে সাইটের কাঠামো বোঝাতে সহায়তা করে।

২. বহিঃগামী লিঙ্ক (External Link / Outbound Link Building)

অন্য ওয়েবসাইটের নির্ভরযোগ্য বা প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলের লিঙ্ক ব্যবহার করা। এটি গুগলকে দেখায় যে আপনার কনটেন্ট তথ্যবহুল এবং অন্য সোর্সের সঙ্গে সংযুক্ত।

৪) অভ্যন্তরীন লিঙ্ক বিল্ডিং বা In Bound Link কি, কিভাবে করবেন?

Internal Link Building হলো একটি ওয়েবসাইটের নিজের কন্টেন্টগুলোর একটির সাথে অপরটির লিঙ্ক-আপ করা । এরফলে একটি ব্যাকলিঙ্ক পাওয়ার পাশাপাশি ভিজিটরস বেশি সময় আপনার সাইটে অবস্থান করবে, এবং বাউন্স রেট কমে যাবে ।

তবে,লিঙ্ক বিল্ডিং করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, আপনার লিঙ্কটি যেন কনটেন্ট রিলেটেড হয়। আপনি লিখলেন এক্স নিয়ে কিন্তু ভিতরে দিলেন জেড এর লিঙ্ক, তাহলে ভালোর চেয়ে খারাপটাই বেশি হবে ।

৫) বহিঃগামী লিঙ্ক বা Out Bound Link কি, কিভাবে করবেন?

একটি ওয়েবসাইটে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করাকে বহিঃগামী লিঙ্ক (Outbound / External Link) বলা হয়।

বহিঃগামী লিঙ্ক দেওয়ার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন,

১. প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখুন: লিঙ্কটি অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত হতে হবে।

২. বিশ্বস্ত সোর্স ব্যবহার করুন: গুগল আপনার সাইটকে সেই সোর্সের সঙ্গে যুক্ত মনে করবে।

কারণ, আপনাকে গুগল যার সাথে মেলামেশা করতে দেখবে, আপনার ব্লগটিকেও তার মতোই মনে করবে। আপনার সাইট যদি আইটি রিলেটেড হয়, তবে আইটি রিলেটেড সাইট কে ব্যাকলিঙ্ক দিন। এটি গুগলকে বোঝাবে যে আপনার ওয়েবসাইটও তথ্যবহুল এবং প্রাসঙ্গিক।

৬) হেডিং এবং সাবহেডিং ব্যবহার – অনপেজ এসইও

আপনার আর্টিকেলকে যতটা সম্ভব প্যারা করে লিখুন। প্রতিটি প্যারার জন্য সাব-হেডিং ব্যবহার করুন। H1 থেকে H6 পর্যন্ত সঠিকভাবে ক্রমানুসারে এবং গুরুত্ববুঝে ব্যবহার করুন।

তবে Subheading H2  এবং H3 বেশি ব্যবহার করুন। কারণ গুগলের অ্যালগরিদম আর্টিকেল স্ক্যান করার সময় H1 থেকে H3 পর্যন্ত হেডিংগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সঠিকভাবে হেডিং ব্যবহার করলে কনটেন্টের কাঠামো স্পষ্ট হয়, ভিজিটর পড়তে সুবিধা পান এবং সার্চ ইঞ্জিনও সহজে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।

৭) সঠিকভাবে ছবি ব্যবহার | Image optimisation

পোস্টের সাথে সম্পর্কিত সঠিক এবং সুন্দর ছবি ব্যবহার করুন। কপিরাইটযুক্ত ছবি ব্যবহার করবেন না। গুগল থেকে ছবি নিলে অবশ্যই রি-ইউজেবল ছবি ফিল্টার ব্যবহার করুন। তবে আমার পরামর্শ হলো, ফ্রি-স্টক সাইট থেকে ছবি নিন। যেমন: Pexels.com আমার প্রিয় সাইট।

পেজ লোড ফাস্ট রাখা অন পেজ এসইও ( On Page SEO) এর মধ্যে পড়ে, ছবি সাইজ ছোট রাখলে পেজ দ্রুত লোড হয়। গুগল সাজেস্ট করে  WebP Format ব্যবহার করার জন্য। ছবির সাইজ সাধারণত ৬৬০ × ৩৪০ পিক্সেল এর আশেপাশে রাখা ভালো। এডসেন্স পলিসি অনুসারে প্রথম ছবিটি ২ প্যারা পরে রাখবেন, কারণ হেডলাইনের নিচে গুগল বিজ্ঞাপন দেয়।

ছবির নাম হিসেবে মেইন কিওয়ার্ড বা পোস্টের টাইটেল ব্যবহার করুন। ছবিতে অবশ্যই ক্যাপশন দেওয়ার চেষ্টা করবেন, কেননা অনেক সময় আমরা পোস্ট এর পাশাপাশি ইমেজ সেকশনেও সার্চ করি।

ছবি সেটিংস থেকে Title এ আপনার পোস্ট টাইটেল কিওয়ার্ড দিবেন। Alt এ মেইন কিওয়ার্ড রিলেটেড সাব কিওয়ার্ড গুলো কমা  দিয়ে ব্যবহার করবেন।

৮) টাইটেল, লিঙ্ক এবং সার্চ ডেস্ক্রিপশন

টাইটেল অবশ্যই কীওয়ার্ড সমৃদ্ধ রাখুন। গুগলের প্রদর্শন স্কেল প্রায় ৫৩০ পিক্সেল, তাই টাইটেল বেশি বড় হলে ভিজিটররা পুরোটা দেখতে পাবেন না। এতে ট্রাফিক হারানোর সম্ভাবনা থাকে।

লিঙ্ক অবশ্যই কাস্টমাইজড করে দিন। সংক্ষিপ্ত ও আর্টিকেলের সাথে সম্পর্কিত শব্দ ব্যবহার করুন। ব্লগারে বাংলায় ইউআরএল ব্যবহার করবেন না। একাধিক শব্দ ব্যবহার করলে শব্দগুলোর মধ্যে হাইফেন (-) ব্যবহার করুন।

সার্চ ডেস্ক্রিপশন হলো আপনার আর্টিকেলের সারাংশ, যা গুগলে স্নিপেট হিসেবে দেখানো হয়। সার্চ ডেস্ক্রিপশনে অবশ্যই কীওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করুন। এটি আপনি নিজে থেকে লিখতে পারেন, অথবা আর্টিকেল থেকে প্রাসঙ্গিক অংশ কপি করতে পারেন।

টাইটেল, সার্চ ডেস্ক্রিপশন এবং লিঙ্ক সাইজ ঠিক আছে কিনা, এখানে টেস্ট করতে পারেন।

অন পেজ এসইও নিয়ে শেষ কথা

অন পেজ এসইও (On-Page SEO) অপটিমাইজেশন, অফপেজ এসইওর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই আপনার আর্টিকেলকে গুগলের প্রথম পেজে র‌্যাঙ্ক করাতে হলে প্রথমে অন পেজ এসইও এর উপর গুরুত্ব দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করুন। সেই সাথে কনটেন্ট কোয়ালিটির দিকে খেয়াল রাখবেন।

কোনভাবেই কপি করবেন না, এটা সাইটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। কপি পোস্ট থাকলে আপনি এডসেন্স পাবেন না, আর এডসেন্স থেকে থাকলে এডসেন্স ডিসেবল করে দিতে পারে । এছাড়াও, গুগল ইনডেক্সিং বন্ধ করে দিতে পারে।

তাই নিজের মেধা ও গবেষণার উপর ভরসা করে ইউনিক এবং কোয়ালিটি আর্টিকেল তৈরি করুন। অন-পেজ এসইও কিভাবে করতে হয় তা শিখতে থাকুন।

নতুন সাইট সাধারণত প্রথমে গুগল র‌্যাঙ্ক দিতে চায় না, তবে যদি নিয়মিত অন-পেজ এসইও করে আর্টিকেল লিখেন, ২ মাসের মধ্যে দেখবেন আপনার আর্টিকেল গুগলে র‌্যাঙ্ক করা শুরু করেছে।

আশা করি, অন পেজ এসইও কি, অন পেজ এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্লগে অন পেজ এসইও কিভাবে করতে হয় সেসম্পর্কে একটা ভাল ধারণা পেয়েছেন, কোন প্রশ্ন থেকে থাকলে কমেন্ট বক্স আপনার জন্য উম্মুক্ত রইলো।

Labels: এসইও ব্লগিং